Home / All Categorized / নবাবগঞ্জে উপজেলার নাম করণ ও ইতিহাস
Amazing dinajpur

নবাবগঞ্জে উপজেলার নাম করণ ও ইতিহাস

অতি প্রাচীণকালে এই এলাকায় একজন অতিব প্রভাবশালী নবাব ছিলেন। তার তিন কন্যা ও একপুত্র ছিল। কন্যাদের বিয়ে দেয় সুযোগ্য ও নবাবজাত সন্তানদের দিয়েই। আর নবাবপুত্রের এক সুন্দরীকন্যার সাথে মালাবদল হয়। সুখেই দিন যাচ্ছিল। নবাব অতিশয় বৃদ্ধ হয়ে যায় আর নবাব পুত্র তার বোনদের সাথে বেঈমানি করে সমস্ত সম্পদ উইল করে নেয়। তিন বোন একসাথে হয়ে ত্রিশক্তি গঠন করে ভাই নবাবের উপড় আক্রমন করে এতে ভাই ও ভাই পত্নি মারা যায় আর নবাবের পতন হয়। এর পর থেকেই মুলত এই স্থানের নাম হয় নবাবগঞ্জ।

নবাবগঞ্জ থানা :

১৮৯৯ সালে বৃট্টিশ শাসন আমলে নবাবগঞ্জ থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রতিষ্টিত হয় :

নবাবগঞ্জ থানা ১৯৮৩ সালে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বর্ণনা :

আয়তন : নবাবগঞ্জ  থানার আয়তন ৩২৪.৬৮ বর্গ কি:মি: । এই উপজেলার জনসংখ্যা  প্রায় ২০৪৩৫১ জন এবং ঘনত্ব ৬৪৩.৫৪। এই উপজেলায় মোট ইউনিয়ন ০৯ টি ৩৪৯৯৯ টি পরিবার ২১২ টি মোজা এবং ২৮২ টি গ্রাম ঘরবাড়ী ৪৬৪৩৫ টি এর পরিধি ৩১৪.৬৮ বর্গ কি:মি এই উপজেলার উপর দিয়েই বয়ে গেছে করতোয়া, যমনেশ্বরী ও তুলশীগঙ্গা নদী। এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬৮০০০ জন (সুত্র : নি:ক ২০০৯)।এই উপঝজলার শিক্ষার হার ৩৮.৪% ।

উপজেলার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সমুহ: উপজেলা নির্বহী পরিচালক , থানা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, আনসার ভিডিপি, পোষ্ট অফিস,উপ সহকারী প্রকৌশলী  বিভাগ, পরিসংখ্যান, প্রাণী  সম্পদ,যুব উন্নয়ন,প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগ,সাব রেজিষ্ট্রার অফিস,বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, বন অফিস, সমাজ সেবা,কৃষি অফিস,মংস্য অফিস,খাদ্য অফিস,সমবায় অফিস , এনজিও ফোরাম, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা সমুহ। এই ছাড়া অসংখ্যা সেচ্ছাসেবী সংগঠন অবস্থিত এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান নর্থগ্লিন্ট এডুকেশন ডেভেল্পমেন্ট ফাউন্ডেশন (নিড ফাউন্ডেশন) উল্লেখযোগ্য।

দর্শনীয় স্থান সমুহ :

সীতার কোর্ট, জাতীয় উদ্যান, দারগার আম বাগান, চড়ার হাটের গন কবর এবং দেশের সবচেয়ে আনন্দময় ও পিকনিক স্পট বেসরকারী উদ্যোক্তা কর্তক প্রতিষ্ঠিত স্বপ্নপুরী উল্লেখযোগ্য ।

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে নবাবগঞ্জ থানায় মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়। দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর কাজী নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালনা হয়। মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুর জেলার মানুষের দুঃসাহসিক ভুমিকা দিনাজপুরের ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুর ৬ ও ৭ নং সেক্টরের অধীন ছিল। ৬ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার এবং ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান। ঢাকার বাহিরে  চট্টগ্রামের পরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল দিনাজপুরে এবং দিনাজপুরে সেই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল পাকিস্তানিদের দুর্জেয় ঘাঁটি কুঠিবাড়ী ব্যারাক থেকে। কয়েকজন নামহীন, খ্যাতিহীন, পদমর্যাদাহীন বাঙালি ইপিআর জওয়ান শুরু করেছিলেন সেই সংগ্রাম।

তথ্য সংগ্রহ ও লেখক : স্বপন

Amazing dinajpur    salbagannawabgonjdinajpurgt8

Facebook Comments
Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শোলাকিয়াকে ছাড়িয়ে প্রথম বারের মতো দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো ‘উপমহাদেশের সর্ববৃহত্তম’ ঈদ জামাত!

প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগমে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো উপমহাদেশের সর্ববৃহত্তম ঈদের জামাত। দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ...