Home / উপজেলা / ফুলবাড়ি উপজেলা

ফুলবাড়ি উপজেলা

দিনাজপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় এই উপজেলাটি ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। এককালে ফুলবাড়ী ছিলো একটি দূর্গনগরী, একে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিলো নগর ও জনবসতি। সেইপ্রাচীনকালের নগরীর রেশ ও ক্রমধারায় নতুন আধুনিক শহর ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু দুর্গটির কোনো চিহ্ন আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে শহরের হাট বাজার ও ব্যবসাকেন্দ্র প্রাচীন দুর্গের অভ্যন্তরেই গড়ে উঠেছে।
জনশ্রুতি রয়েছে যে, প্রাচীন আমলে এই অঞ্চলে প্রচুর ফুলের বাগান ছিল। ফুলের বাগানের আধিক্যের কারণে এই জায়গাটির নাম ফুলবাড়ী হয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলার আয়তন ২৯৯.৫৫ বর্গ কিমি। ফুলবাড়ী থানা সৃষ্টি হয় ১৮৫৭ সালে এবং ফুলবাড়ী থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৪ সালে। উপজেলা শহর ৯ টি ওয়ার্ড ও ১১ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত যার আয়তন ১৬.০৪ বর্গ কিমি। এই উপজেলার প্রধান নদী ছোট যমুনা। প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদের মধ্যে দামোদরপুর নগরী ও গৌড় গোবিন্দ উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে এই উপজেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার লোকের বাস। মানুষের প্রধান পেশা কৃষি, ব্যবসা, শিল্প, পরিবহন, চাকরি। প্রধান কৃষি ফসলঃ ধান, পাট, ডাল, গম, আলু, শাকসবজী, পিঁয়াজ এবং রসুন। ফুলবাড়ী উপজেলার শিক্ষার হার ৩৭%। এখানে ১ টি কলেজ, ৫ টি বেসরকারী কলেজ, ৪৩ টি উচ্চবিদ্যালয়, ৬২ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮ টি মাদ্রাসা রয়েছে। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৪১ টি সাংস্কৃতিক ক্লাব, ১ টি পাবলিক লাইব্রেরি, ১ টি সিনেমা হল, ২ টি যাত্রাদল, ১ টি প্রেসক্লাব। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পৌরসভা হাসপাতাল ও স্যাটেলাইট ক্লিনিক।

ফুলবাড়ী উপজেলা দিনাজপুর ৫ নির্বাচনী আসনের অন্তর্ভুক্ত।

DINAJPUR-PHULBARI

এক নজরে উপজেলাঃ
আয়তন : ২২৮.৬ বঃ কিঃ মিঃ
জনসংখ্যা : ১,৫১,৯৩৯ জন।
ঘনত্ব : ৬৬৫ জন।
নির্বাচনী এলাকা : পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর- ৫
থানা/ইউনিয়ন : ৭ টি।
মৌজা : ১৫৮ টি।
সরকারী হাসপাতাল : ১টি।
স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ক্লিনিক : ১৯ টি।
পোষ্ট অফিস : ১০টি ।
নদ-নদী : ১ টি।
হাটবাজার : ১০ টি।
ব্যাংক : ০৯ টি।

উপজেলার পটভূমিঃ
ফুলবাড়ী উপজেলার দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৪১ কিঃ মিঃ দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। উপজেলাটির উত্তরে পার্বতীপুর এবং চিরিরবন্দর উপজেলা, দক্ষিণে বিরামপুর উপজেলা, পূর্বে নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত। এককালে ফুলবাড়ী ছিলো একটি দূর্গনগরী, একে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিলো নগর ও জনবসতি। সেই প্রাচীনকালের নগরীর রেশ ও ক্রমধারায় নতুন আধুনিক শহর ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু দুর্গটির কোনো চিহ্ন আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে শহরের হাট বাজার ও ব্যবসাকেন্দ্র প্রাচীন দুর্গের অভ্যন্তরেই গড়ে উঠেছে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, প্রাচীন আমলে এই অঞ্চলে প্রচুর ফুলের বাগান ছিল। ফুলের বাগানের আধিক্যের কারণে এই জায়গাটির নাম ফুলবাড়ী হয়েছে। ফুলবাড়ী শহরের পাশ দিয়ে পুরাতন যমুনা নদী এখনও বহমান। দিনাজপুরের দিক থেকে শহরে প্রবেশ করতেই নদীটির উপর একটি পুরাতন ব্রীজ প্রায় পূর্ব-পশ্চিমে দিনাজপুর-ফুলবাড়ী পাকা সড়কটিকে যুক্ত করেছে। সেতুটির পূর্ব প্রান্ত ঘেঁষে উত্তর দক্ষিণে ২০০ গজ দীর্ঘ দুর্গটির পশ্চিম দেয়ালের অস্ত্বিত্ব রয়েছে। পরিখাবেষ্টিত অভ্যন্তরীণ দেয়ালের সামান্য রেশ কোথাও থাকলেও হাট বাজার ও জনতার চাপে তা বর্তমানে অদৃশ্য।

১। ফুলবাড়ির ইতিহাস
২। ফুলবাড়ির বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম ও বণনা
৩। ফুলবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ছবি (যেমন-পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, বাজার ইত্যাদি)
৪। ফুলবাড়ির যত স্কুল-কলেজ,হাসপাতাল-ক্লিনিক, অফিস, ব্যাংক, দোকান, বীমা, এনজিও, থানা……… ইত্যাদির ঠিকানা, ফোন/মোবাইল নম্বার, সেবা সমূহ
৫। বিভিন্ন ব্যাক্তির নাম যারা রক্ত দানে আগ্রহী এবং তাদের মোবাইল নম্বার, ঠিকানা
৬। ফুলবাড়ির মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা
৭। ফুলবাড়ি উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাইহাট সংলগ্ন আঁখিরা স্থানের ছবি ও ইতিহাস
জুমার নামাজের পর পাকবাহিনী ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদীর লোহার ব্রিজটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে ট্রেনযোগে সৈয়দপুর অভিমুখে পালিয়ে যায়। ওইদিনই ফুলবাড়ী সিঅ্যান্ডবি ডাকবাংলোয় মিত্রবাহিনীর মেজর পি কে সিংয়ের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এ এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা।
আজ ১৭ এপ্রিল শনিবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার আখিরা গণহত্যা দিবস। আজ থেকে ৩৯ বছর আগে ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রাণে বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার চিহ্নিত রাজাকার কেনান সরকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে পাকিস্তানী খানসেনাদের হাতে তুলে দেয়। পরে খানসেনারা আটক সবাইকে উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাইহাট সংলগ্ন আঁখিরা নামক স্থানের পুুকুর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। দেশ স্বাধীনের পর ঐ এলাকায় বীর ঐসব শহীদদের হাঁড়-গোড়, মাথার খুলি ছিড়িয়ে ছটিয়ে দেখতে পায় এলাকাবাসী। অবশ্য দেশ স্বাধীনের পর এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা ঘাতক রাজাকার কেনান সরকারকে ধরে এনে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেই আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের জন্য নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতি সৌধ। একইভাবে সংরণের উদ্যোগও নেয়া হয়নি সেই বধ্যভূমির। এ কারণে অবহেলা, অযত্ন আর অরতি অবস্থায় পড়ে রয়েছে বধ্যভূমিটি। অরতি অবস্থায় বধ্যভূমিটি পড়ে থাকায় সেখানে অবাধে চড়ে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগলসহ অন্যান্য গবাদি পশু। দিনটি প্রতি বছর আসে আর যায়। আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মরণ করতে কেউই কোন উদ্যোগ নেয় না। ফলে দিনটি নিরবে আসে আর নিরবেই চলে যায়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী খানসেনা ও তাদের এ দেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আল-শামসদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মুক্তিকামী মানুষ যখন বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিল ঠিক এমনই এক সময় আজকের এই দিনে ফুলবাড়ি উপজেলার পার্শ্ববর্তী আফতাবগঞ্জ, বিরামপুর, শেরপুর, খোলাহাটি, বদরগঞ্জ ও ভবানীপুর এলাকার অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ফুলবাড়িতে নিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার (বর্তমান ফুলবাড়ি) রামচদ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার। কিন্তু কেনান সরকার ঐ পরিবারগুলোকে ভারতে পৌঁছে না দিয়ে তুলে দেয় ফুলবাড়িতে অবস্থানরত খানসেনাদের হাতে। এর পরিবর্তে কেনান সরকার হাতিয়ে নেয় ঐ পরিবারগুলোর সাথে থাকা বিপূল অংকের নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার। খানসেনারা আটক পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ধরে নিয়ে আসে আঁখিরা পুকুর পাড়ে। সকাল ১১টায় সকলকে পুকুর পাড়ে লাইন ধরে দাড়িয়ে রেখে স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ারে গুলি করে পাখির মতো হত্যা করে। এ সময় দু’একজন শিশু-কিশোর প্রাণে বেঁচে গেলেও পরে তাদেরকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। অবশ্য দেশ স্বাধীনের পর রাজাকার কেনান সরকারকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করে প্রতিশোধ নেন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে আঁখিরা বধ্যভূমিটি সংরণসহ সেখানে বীর ঐসব শহীদদের স্মৃতি উদ্দেশ্যে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও শুধুমাত্র অর্থের অভাবে সেটি করা যাচ্ছে না।
ভর দুপুর। সূর্য একেবারেই মাথার ওপর। তবে আসন্ন শীতের হাতছানিতে রোদের তেজ নেই বললেই চলে। ফুলবাড়ি থেকে শহীদ আমিন-সালেকিন-তরিকুলের বাড়ি যাব বলে একটি ভ্যানে উঠেছি। ভ্যানচালক মধ্যবয়সী গোছের হবেন। বিকেলে সমাবেশ। সমাবেশ উপলক্ষে তার মেজাজ বেশ ফুরফুরে। সবে নাপিতের দোকান থেকে দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে এসেছেন। বয়স কমিয়ে তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে বেচারা গোঁফে কালি (কলপ) লাগাতেও ভুল করেননি। সঙ্গে আমার আরো এক বন্ধু। আমিনের বাড়ি বারোকোণায়। ফুলবাড়ি থেকে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড পার হলেই মেঠো পথের ঠিকানা। যাচ্ছি একেবার ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে। ধানক্ষেতগুলো সবুজের সতেজতা ছাড়িয়ে সোনালি আভা ছড়াতে শুরু করেছে। শীষে চালের পরিপুষ্টতা আসায় ধানগাছগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিক ফলনে কোনো কোনো জমির ধান নেতিয়ে পড়ছে। ধানের ফলনই জানান দিচ্ছে ফুলবাড়ি মাটির গুণাগুণ। ভ্যানচালক শওকত জানান, শুধু মাটির ওপরের সোনা দেখলেই হবে না, ফুলবাড়ির মাটির নিচে যে কালো সোনা রয়েছে তা আরো মূল্যবান। এই কালো সোনার দিকেই দেশি-বিদেশি শকুনেরা চোখ রাঙিয়ে আছে। তারা এই সোনা লুট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় সঙ্গে থেকে ভ্যানচালক এলাকার সার্বিক বিষয় নিয়ে অগোছালোভাবে অনেক কথাই শোনালেন। মূল বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করে দু-একটি উপমাও দিলেন তিনি। সরকারকে উপলক্ষ করে ডাকাত কাহিনী নামের এমনই একটি কেচ্ছা শোনালেন ভ্যানচালক শওকত। কেচ্ছাটি হলোÑ এক ডাকাত সরদার দীর্ঘদিন ধরে বেশ নামের সঙ্গেই ডাকাতি করে আসছে। এলাকায় তার সমকক্ষ পাওয়া দায়। একদিন দূরের কোনো গ্রাম থেকে ডাকাত সরদার তার দলবল নিয়ে ডাকাতি করে গহীন জঙ্গলে গিয়ে মালামাল ভাগ-বাটোয়ারা করছে। বাহিনীর অন্য সদস্যরা চলে গেলেও সরদার ক্লান্ত শরীরে এক গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। কাছেই একটি খেজুর গাছে একটি কাক বারবার উড়ে যাচ্ছে আবার পরক্ষণেই আহার ঠোঁটে করে ফিরে আসছে। সেখানে কোনো কাক ছানার শব্দ নেই। দীর্ঘক্ষণ এই দৃশ্য দেখার পর উৎসুক ডাকাত সরদার খেজুর গাছের মাথায় উঠে দেখেন বিশাল আকৃতির এক অন্ধ অজগর সাপ কু-লী পাকিয়ে মুখ হাঁ করে আছে। আর কাকটি মুখে আহার নিয়ে চারদিকে কা-কা করছে। সরদার তৎক্ষণাৎ গাছ থেকে নেমে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত প্রকাশ করে তওবাস্বরূপ বলেন, একটি অন্ধ সাপকে যদি ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর সাহায্যে সৃষ্টিকর্তা বাঁচিয়ে রাখতে পারে, তাহলে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষ কিভাবে মানুষের ক্ষতি করতে পারে। ডাকাত সরদার সৃষ্টিকর্তার কৃপায় অবনত মস্তকে ক্ষমা প্রার্থনা করে মালামাল রেখেই নিরুদ্দেশ হয়ে যান। ভ্যানচালক গল্পের ইতি টেনে বলেন, ডাকাত সরদার তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হলেও আমাদের দেশের সরকার বেহায়া-নির্লজ্জের মতো কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একটি সাপের কাঁটাযুক্ত খেজুর গাছের মাথায় নিরাপদ ঠাঁই মিললেও ফুলবাড়ির মানুষদের উদ্বাস্তু করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, এই ষড়যন্ত্র আমরা কোনো দিনই মেনে নেবে না। আমিন-সালেকিন-তরিকুল রক্ত দিয়েছে। আমরা লাখ লাখ মানুষের জীবন দিয়ে সে রক্তের ইজ্জত রক্ষা করব।
শুধু ভ্যানচালক শওকত নয়, ফুলবাড়ি উপজেলার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আজ কয়লা খনি নিয়ে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। তারা আজ আর কোনো রাজনীতির মেরুকরণে আবদ্ধ থাকতে চায় না। খনি নীতিতে এখানকার মানুষেরা একই পথের পথিক। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যে এই খনির ওপর নির্ভরশীল তা ফুলবাড়ি মানুষের চিন্তা-চেতনায় প্রকাশ। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট থেকে এই চেতনা আরও পরিশুদ্ধতা লাভ করছে। তাদের চেতনায় আমাদের তথাকথিত রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের নিঃসন্দেহে হার মানায়। নৈতিক অবস্থান থেকে ত্যাগ স্বীকার করলে তার ফলাফল যে ইতিবাচক হবেই তার প্রমাণ গত ৩০ অক্টোবর তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ রক্ষা জাতীয় কমিটির সমাবেশ। একইভাবে কমিটির সপ্তাহব্যাপী লংমার্চে দেশবাসী যেভাবে সাড়া দিয়েছে তাও তাতেও ২৬ আগস্টের ট্র্যাজেডির প্রতি নৈতিক সমর্থনের স্বাক্ষর বহন করে। ওই ট্র্যাজেটি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষকে বাঁচতে শিখিয়েছে। মানুষ হিসেবে মানুষেরা শক্ত ভিত দাঁড় করিয়েছে। যেনতেন শক্তি সেই ভিতকে পরাস্ত করতে পারবে না। হাজার মানুষের প্রাণের দাবির সঙ্গে শহীদি তিন পরিবারের একত্মতা যোগ হয়ে ফুলবাড়ির কয়লা খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হচ্ছে।
আমিন-সালেকিন-তরিকুল হত্যাকা-ের দীর্ঘ চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। ফুলবাড়ি নদী তীরে ওদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার তৈরি করেছে জনগণ। প্রতিবছর ২৬ আগস্ট ফুল দিয়ে ওদেরকে স্মরণ করা হয়। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয় দিবসটি উপলক্ষে। কালের পরিক্রমায় ফুলবাড়ি দিবসের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয়ত এই গুরুত্ব কোনো একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা দুনিয়ায় শোষিত মানুষদের বেঁচে থাকার অনুভূতিকে জাগ্রত করবে। সে বেলাতেও আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন হবে কিনা এমনই জিজ্ঞাসায় ঘুরপাক খায় ফুলবাড়ির সাধারণ মানুষেরা।
লংমার্চ শেষে ট্রেনে করে ফিরছিলাম। পাশের আসনে বসা আনসার আলী নামে এক বৃদ্ধ কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অন্য একটি গল্প শোনালেন, ‘গ্রামের এক নববধূ বদনা নিয়ে টয়লেটে গেছেন। টয়লেট থেকে বেরুনোর পর হাত থেকে পড়ে বদনাটি ফেটে গেলে নববধূ ফাটা বদনা নিয়ে করুণ সুরে কান্না করছেন। শাশুড়ি এসে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করতেই বধূটি আরো হাউমাউ করে বলছেন, একবার যে বদনাকে ইজ্জত দেখিয়েছি তা অন্য বদনাকে দেখাতে পারব না।’ বিষয়বস্তুর সঙ্গে বৃদ্ধ গল্পের গাঁথুনি দিয়ে বলেন, আর কোনো নাইকো বা শেভরন নয়। এবার নববধূর মতো ইজ্জতের কথা চিন্তা করেই এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।

Facebook Comments
Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Amazing dinajpur

শিশির ভেজা ধানের শীষ

দিনাজপুর থেকে সাত সকালে শিশির  ভেজা ধান ক্ষেত থেকে ছবি টি  খায়রুল আলম এর তোলান ...