Home / উপজেলা / পার্বতীপুর / ফুলবাড়ি ট্রাজেডি

ফুলবাড়ি ট্রাজেডি

২০০৬ সালের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল এবং এশিয়া এনার্জিকে প্রত্যাহারের দাবীতে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে মিছিল-সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিডিআর এর সাথে জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় সালেকিন (২০), তরিকুল ইসলাম (২১) ও আমিন (১৩) নিহত হয়। আহত হয় ২ শতাধিক।
 এ সময় উত্তেজিত জনতা এশিয়া এনার্জির স্থানীয় অফিস ভেঙ্গে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর পরে শুরু হয় লাগাতার হরতাল। পরবর্তীতে আন্দোলন কমিটির সাথে সরকারের সমঝোতার ভিত্তিতে হরতাল প্রত্যাহারসহ ধীরে ধীরে এলাকায় ফিরে আসে শান্তি।
২০০৬ সালের ৩১ আগস্ট  তৎকালীন জোট সরকারের একজন উপমন্ত্রী ও রাজশাহী সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ফুলবাড়িতে এসে আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকের পর এশিয়া এনার্জীকে প্রত্যাহার, হতাহতদের ক্ষতিপূরণসহ ৬ দফা চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সমঝোতার আলোকে আন্দোলন কমিটির অন্যতম দাবী নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ, নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবীসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার। কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলেও অন্যান্য দাবী গুলো আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এগুলো হলো উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দেশের কোথাও খনি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না, বাংলাদেশ থেকে এশিয়া এনার্জির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে তাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
ফুলবাড়ি রক্ষা কমিটির নেতারা জানান, ৬ দফা চুক্তির পর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলবাড়ী এসে এক সভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু তার চুক্তি আজো বাস্তবায়ন হয়নি। ফুলবাড়ীতে এখনও এশিয়া এনার্জির অফিস রয়ে গেছে। ভিন্ন নামে আবার এখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পায়তাড়া চালানো হচ্ছে। এটা করা হলে এখানকার মানুষ তা প্রতিহত করবে।
উল্লেখ্য, ফুলবাড়ী পৌর এলাকাসহ এর আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভে কয়লার সন্ধান পাওয়ার পর এশিয়া এনার্জি নামে একটি বিদেশী কোম্পানী ২০০৫ সালের ২ অক্টোবর ফুলবাড়িতে কয়লার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। তারা ওই এলাকায় ১১টি কূপ খনন করে। ফুলবাড়ি, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার অধীনে ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অংশ ফুলবাড়ি প্রকল্প এলাকার অভ্যন্তরে অবস্থিত।
খনি বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এর মধ্যে কৃষি জমির পরিমান ৪ হাজার ৭৬২ হেক্টর। খনির মেয়াদকালে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এবং প্রায় ২০ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এক পর্যায়ে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা এবং এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ‘ফুলবাড়ির মানুষ ফুলবাড়ি রক্ষা কমিটি’ নামে একটি আন্দোলন কমিটি গঠন করে আন্দোলন শুরু করে।পরে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি খনি বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। চলতে থাকে মিছিল, মিটিং এবং সমাবেশ। এর পরও এশিয়া এনার্জি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটে ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট।
ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে  ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়ে  থাকে । কর্মসূচির মধ্যে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাচ ধারণ, সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ি নিমতলা মোড়ে গণজমায়েত, সেখান থেকে শোক র‌্যালী ও স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। বিকালে শহীদ স্মরণে বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করা হয়…
তথ্যঃ সাহস২৪
Facebook Comments
Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

Amazing Dinajpur

একাধিক কোটা থেকেও শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়না প্রতিবন্ধী নূর আলীর

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার পুকুরি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন নূর আলী। জন্ম থেকেই পা দুটি ...